জানুয়ারী 21, 2022
টক ঢেকুর বা বুক জ্বালাপোড়ার রোগ

টক ঢেকুর বা বুক জ্বালাপোড়ার রোগ

গ্যাস্ট্রো ইজোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা জিইআরডি। খটমটে শব্দ বটে, তবে আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই কমবেশি ‘রিফ্লাক্সের’ অভিজ্ঞতা আছে। সহজ ভাষায় বললে, ঢেকুর তুললে মুখের মধ্যে টক বা তেতো স্বাদ অনুভব করা বা কখনো বুক জ্বালাপোড়া করা—এসবই হলো রিফ্লাক্সের লক্ষণ। আর এ ধরনের উপসর্গ সপ্তাহে দুই বা ততোধিকবার হলে তাকে গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বলা হয়। বিশ্বের ১৪ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভুগে থাকেন।

আমাদের খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর সংযোগস্থলে একটি ভাল্‌ব বা বৃত্তাকার পেশির তৈরি রিং আছে, যার নাম লোয়ার ইসোফেজিয়াল স্ফিংটার। এই ভাল্‌বের কাজ হলো খাবার খাদ্যনালি থেকে পাকস্থলীতে প্রবেশের সময় শিথিল বা প্রসারিত হওয়া, আবার খাবার পাকস্থলীতে প্রবেশ করার পর শক্তভাবে এর মুখ আটকে দেওয়া। কোনো কারণে এর কার্যকারিতা হ্রাস পেলে পাকস্থলীর অ্যাসিড মিশ্রিত পাচক রস ও খাবারের অংশ ওপরে ঠেলে খাদ্যনালিতে চলে আসে আর বুক জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।

জিইআরডির সঠিক কারণ সব সময় স্পষ্টভাবে বোঝা না গেলেও কিছু বিষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম কারণ হলো হায়াটাস হার্নিয়া। এতে খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর উপরিভাগ বুকের মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রামের ওপরে উঠে আসে। কখনো স্ফিংটারের পেশি শিথিল হয়ে পড়লে বা পেটের চাপ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে জিইআরডি হতে পারে।

স্থূলতা, গর্ভধারণ, ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত পেট ভরে খাবার বা পানি গ্রহণ করার পর পর শুয়ে পড়া অথবা কাত হয়ে বা উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে রিফ্লাক্স হয়। কার্বনেটেড পানীয় (যেমন কোমল পানীয়) বা চা-কফি বেশি পান করলে কিংবা মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার, চকলেট, অতিরিক্ত টক জাতীয় খাবার খেলে ঝুঁকি বাড়ে। অ্যাসপিরিন, ব্যথানাশক, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, মাসল রিলাক্সেন্ট জাতীয় ওষুধ সেবনে সমস্যা বাড়ে।